Nishi kanto roy

Nishi kanto roy

 

Nishi kanto roy

খোলা জানালার পাখি

নিশিকান্ত রায়

জানালায়
ভেসে ওঠে শ্রাবণের মুখ
পরিচিত কথা ঘুরে ঘুরে
ধুলো-বালির গয়নার রূপ খুঁজে নেয় ।

হাওয়া পড়ে এলে
পাখির ডানায় উড়ে নানা কথা
নোঙরের চোখে দূরগামী ডেমোসেল ক্রেইন ।

অবারিত জানালার মুখচ্ছবি
কোথায় হারায়,
বুঝাতে পারি না।

জানালায় অচেনা আঙুল
আলোর আংটিতে নেচে ওঠে
শিস্ দিয়ে ভেসে যায় ভোর।
তার কালো চুল উড়ে এসে পড়ে
সমুদ্রের ছায়ার মতোই।

আমার জীর্ণ জানালাটুকুতে
মেঘের নুপুর,
গড়িয়ে পড়া গোধূলির সাথে
লালচে ডানার পাখি,
উড়ে না-
ঘুরে না,
শুধু চেয়ে থাকে মেঘের আকাশ।


Nishi kanto roy

সেই মেঘ সেই আগুন ১২৯

নদী

নিশিকান্ত রায়

সত্যি,
একদিন নদীর ভিতরে ঢুকে গেলাম
তার কাছে বিশ্বাস জমা রেখেছিলাম।
সাঁতার কাটতে গিয়ে
তাকে ডেকেছিলাম, সখা বলে।

সে আমার
শৈশব কৈশোরের গন্ধ কেড়ে নিয়ে
সাত সমুদ্দুর তের নদী পেরিয়ে
চলে গেছে দূরে- বহুদূরে।

এমন করেই সে হয়ে ওঠে আকাশ,
জলভরা মেঘ,
কালো,সাদা,খয়েরি,হলদে,খড়িমাটি রঙ।

ঘুরে ঘুরে
কুড়িয়ে আনে কাঁশফুল,
ডুব দিয়ে তুলে আনে
ঝকঝকে ঝিনুক।
সে আড়াল করে
আর কেবলই ভাসিয়ে নিয়ে যায়
যৌবনের সমস্ত দহন।

সেই তাপদগ্ধতায়
ভরে ওঠে মাঠের ফসল,
বনের গাছপালা-
শ্লোগানমুখর রাজপথ।

একদিন,
একটা বৃক্ষের ফল ছুঁয়ে দেখি-
ভেতরে বহমান নদী।
একরত্তি শস্য দানা বুকে জড়িয়ে দেখি –
সেখানেও নদী।
একমুঠো মাটি কপালে ঠেকাই-
তার মধ্যেও নদী।
ভালোবাসা বিনিময় করতে গিয়ে দেখি-
তার ভেতরেও
নদীদের ঘরবাড়ি।

নিজেকে পরখ করি-
আমার ভেতরেও নদীর বয়ে চলা।
এখানে কোন কান্না নেই-
এ নদীর জলে
আগুন মিশানো।

সেই আগুনে
দাউ দাউ করে
জ্বলছে সবাই।



Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain