বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল

বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল

 

বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল

মকর দিতে যাওয়া
বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট এতদ্ অঞ্চলের আজ পৌষ পার্বণের স্থানীয় মন্দিরে মন্দিরে মকর যাত্রায় সকাল সকাল মকর ডুব দিয়ে শুদ্ধাচারে পারলে নূতন জামা কাপড় , শাড়ি, ধূতি পরে বিশেষ করে ছোট্ট কচিকাঁচাদের সঙ্গে নিয়ে মকরের বিশেষ পূজোর থালা সাজিয়ে নিয়ে পূজো দিতে যাওয়াকে মকর দিতে যাওয়া বলে ।

মকরের এই বিশেষ থালায় থাকে বিভিন্ন ধরনের গোটা ফল,কলা, নারকেল, তিলা (গুড় পাটালি), বাতাসা, আতপ চাল, চাল গুড়ো, গুড়, রাঙা আলু,শাঁক আলু, কুল, শশা, খেজুর, আদা, । দক্ষিণা মুদ্রা দিয়ে প্রণাম করেন।

মন্দিরে মন্দিরে পূজারী ঠাকুর সারাদিন উপস্থিত থেকে ভক্ত দের নিমিত্তে পূজো দিয়ে প্রসাদী ফুল বেলপাতা ফেরৎ দেয়। রঙচঙে পোষাক পরে দলে দলে বাচ্চাদের মকর দিতে যাওয়ার দৃশ্য খুব সুন্দর লাগে। পূজোর ঘন্টা ধ্বনি ঝাঁঝের বাদ্যি তে মুখরিত হয় মেলা চত্বর।

আমাদের বাড়ির পাশাপাশি মা শীতলা মন্দির, বাসুলি মায়ের মন্দিরে ফি বৎসর সকলকেই পূজোর সামগ্রী নিয়ে মন্দিরে পূজো দিতে যাওয়া নজরে পড়ে। আজিকার শভ তিথিতে আমাদের বাড়ি থেকেও মকর দিতে যাওয়া হয়।


বিজয়া

তুমিই ছিলে আমার প্রেরণা
অযাচিত ভাবে পেলে যাতনা।
চলে গেলে দূর নীলাকাশে
নীলকন্ঠ ঐ পাখির ডাকে।
আমার জীবনে এল বিজয়া
যবনিকা পতনের কালো ছায়া।
সেই যে না বলে চলে গেলে
আর কখনো ফিরে এলে না।
ম্যাসেজ, কল, ফেসবুক চ্যাট
যোগাযোগের অন্তর্জাল ছিন্ন
করে, বেশ আছো আত্ম সুখে।
আমার ক্লান্ত চোখে ঘুম ধরে না
বিনিদ্র রাত আর কাটতেই চায় না!


articleandstory.com




মেঘ পিওন

মেঘের হাতে একটা চিঠি
পাঠিয়ে দিলাম আজ।
বন্ধু আছি অনেক দূরে
হাতে অনেক কাজ।

ব্যস্ততম জীবন মাঝে
দেখা করার অবকাশ তো নাই।
ভালোবাসার অনুভবে
ঐ মেঘের হাতেই যেন তোমার চিঠি পাই।






ভালোবাসা দিবস

ভালোবাসি…
বলা নয় তো মুখের কথা
চারটি বর্ণে একটি শব্দবন্ধ
ভালোবাসা।
ভালোবাসি বলার আগে
হাজারো বার প্রশ্ন করো
তোমার কঠিন হৃদয়টাকে।
দুখ সাগরের অতলান্ত তলে
ডুব দেওয়ার সাহস আছে তো?
নির্জন গভীর একাকী রাতে!
বিনিদ্র নিশি যাপনের সাহস মনে রাখো তো?
সত্যকারের ভালোবাসা…
কাঁচের শরীরের মতো অত ঠুনকো নয়
অল্প আঘাত পেলেই ভেঙে যেতে হয়।
ভালোবাসা হৃদয়ের এক গভীর অনুভব
ভালোবাসার দোসর যদি চুপ থাকে
নীরব থাকার সাহস রাখতেই হবে তোমাকে।
ভালোবাসি বলা নয় তো মুখের কথা
ভালোবাসায় আছে যেন হাজারো ব্যথা।
ভালোবাসা গভীর হলে…
মনের অব্যক্ত কথারা হৃদয়ে বলে।
ভারাক্রান্ত মনে কাঁটাওয়ালা
ঐ গোলাপ গাছের থেকে
একটি সদ্য ফোটা…
লাল গোলাপ তুলে,
প্রশ্ন করো…
ঐ ফুলের রানী গোলাপটাকে
গাছের থেকে ছেঁড়ার বেলায়
কতটা আঘাত দিয়েছো তাকে!




বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল (গদীবেড়ো, পুরুলিয়া)



ভ্রমণ

সাহিত্যিক শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
মহাশয়ের বার্ধক্যের বারানসী
সামতাবেড়,হাওড়া
পশ্চিমবঙ্গ (ভারত)

অমর কথাশিল্পী শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের জন্ম ভিটে পশ্চিম বঙ্গের হুগলির ব্যান্ডেলের সন্নিকটে দেবান্দপুর গ্রামে। বাড়ি ” শরৎ চন্দ্র কুঠি বা শরৎ স্মৃতি মন্দির ” নামেও পরিচিত । উনি এখানে জন্ম গ্রহণ করেন ১৮৭৬ সালের ১৫ ই সেপ্টেম্বর। এটা ছিল উনার পিতার মামা বাড়ি। নিজের পিতার বাড়ির ঠিকানা মামুদ পুর জেলা চব্বিশ পরগনা ।

পিতা মোতিলাল চট্টোপাধ্যায় ও মাতা ভূবনমোহিনী। শরৎ চন্দ্র মহাশয় ছিলেন পাঁচ ভাই বোন। বড় দিদি অনিলা দেবী, শরৎ চন্দ্র, প্রভাস চন্দ্র , প্রকাশ চন্দ্র ও ছোট বোন সুশীলা দেবী। ছেলেবেলায় লেখককে সকলে ” ন্যাড়া ” ডাক নাম ধরে ডাকতেন।

হুগলির ব্রাঞ্চ স্কুলে মেট্রিক পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। এখানে প্রাথমিক পাঠ শুরু করেন প্যারি পন্ডিতের পাঠশালায় পড়াশোনা করেন।

পরবর্তী কালে ভাগল পুরে মামার বাড়িতে চলে যান ও সেখানে পড়াশোনা করেন।

জীবনের অন্তীমের বারোটি বৎসর কাটান হাওড়ার সামতাবেড় গ্রামের রূপনারায়ণ নদীর তীরবর্তী মনোরম পরিবেশে । বড় দিদি অনিলা দেবীর শ্বশুর বাড়ি পাশের গ্রামে গোবিন্দ পুর গ্রামে। আর পিসিমার বাড়ি পাশাপাশি পানিত্রাস গ্রামেই। তাই এতদ্ অঞ্চলে উনি আগে অনেকবার এসেছিলেন এখানকার রূপনারায়ণ নদীর পাড়ের পরিবেশ তাঁর মনে ভালো লেগে যায়। তৎকালে ১৯২৩ সালে রূপনারায়ণ নদীর পাড়ে সামতাবেড় গ্রামে ১১০০ টাকা ব্যয়ে জমি কেনেন ও ১৯২৫ সালে বসত বাটি বানান। এখানে দ্বিতীয় স্ত্রী হিরন্ময়ীদেবী বা মোক্ষদার সহিত বসবাস করতেন।

বসত বাটিটি বার্মার কাঠের বাড়ির আদলে তৈরি করান। সেগুন কাঠের ব্যবহার করা হয়। খরচ হয় তখনকার দিনে প্রায় ১১০০০ টাকা। কোঠা দোতলা বাড়ি, চার পাশে বারান্দা, বাইরে রয়েছে সিঁড়ি ও টালির চাল। চার পাশ কাঠ ও রেলিং দিয়ে ঘেরা। এখানে দাঁড়িয়ে তৎকালে রূপনারায়ণ নদীর জলে ভাসমান নৌকা চলাচল দেখা যেত আর মাঝি মাল্লাদের ভাটিয়ালি গানও কানে শোনা যেত।

তিনি পশু – পক্ষী প্রেমী ছিলেন তার প্রমাণ পাওয়া যায় বাড়ির একপ্রান্তে বড় খাঁচা অবেশেষ দেখে। খাঁচায় ময়ূর পোষতেন এছাড়া বাড়ির সামনের পুকুরে কার্তিক গনেশ মাছকে খাবার খাওয়াতেন। এও শোনা গেল কার্তিক গণেশের নাকে মানুষের মতো সোনার নোলক পরিয়ে ছিলেন। সেই পুকুরের ঘাট ও ঘাটে বসার ধারি এখনো বিদ্যমান।

প্রথমা স্ত্রী ও একমাত্র পুত্রের প্লেগ রোগে বার্মায় মৃত্যু হয়েছে। তাই একমাত্র বংশধর ভাইপো বর্তমানে কিছু সম্পত্তির মালিকানায় রয়েছেন, কিছু সম্পত্তি সরকার গ্রহণ করেছেন। জয় চক্রবর্তী এখানে বিশেষ বিশেষ সময়ে যাতায়াত করেন, বাড়ির সামনের পরিবার গুলোতে আহার করেন, থাকেন। বর্তমানে থাকেন কোলকাতার দিকে বালিগঞ্জে/কসবায় । পুকুরের লিজের টাকা তিনি গ্রহন করেন। তথ্য গুলো পেলাম পাশের পরিবারের এক ভদ্রমহিলার নিকট।

সামতাবেড় যাওয়ার পথ নির্দেশ
– – – – – – – – – – – – – – – – –
লোকাল ট্রেনে ( কলকাতা থেকে মেদিনীপুর) দেউলটি স্টেশনে নেমে তিন কিলোমিটারের মতো পথ টোটো ধরে যাওয়া যায়।

দর্শনীয় হবে
– – – – – – –
শরৎ চন্দ্র মহাশয়ের সমাধি ক্ষেত্র, দ্বিতীয় স্ত্রী হিরন্ময়ী দেবীর সমাধি ও স্বামী বেদানন্দ (ভাই) মহাশয়ের সমাধি ক্ষেত্র ।

শীতকালে রূপনারায়ণ নদীর তীরে পিকনিক করার ব্যবস্থা হয়েছে।

দেশবন্ধু চিত্ত রঞ্জন দাস জেলে যাওয়ার সময় যে রাধা কৃষ্ণের মূর্তি সাহিত্যিক মহাশয়কে দিয়ে গেছেন সেই মূর্তি এখনও নিত্য পূজো হয়।

সামনেই রয়েছে রামের সুমতি গল্পের উল্লেখিত কার্তিক, গণেশের স্মৃতি বিজড়িত পুকুর। সুন্দর বাঁধানো ঘাটে বসার জায়গা রয়েছে। গল্পের পেয়ারা গাছের অবশেষ। পেয়ারা গাছটি বন্যায় জল ঢুকে মারা যায়। তার স্মৃতি চিহ্ন রয়েছে।

লেখকের লেখার ঘর, শোয়ার ঘর, বসবাসের বার্মা স্টাইলে তৈরি টালির কোঠাবাড়ি। বাড়ির উঠোনে একটা লেখকের স্ট্যাচু করা হয়েছে ।

আগে রূপনারায়ণ নদী বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যেত এখন প্রকৃতির নিয়মে দূরে সরে গেছে।সেই চড়ায় প্রস্তাবায়িত টুইস্ট স্পষ্টের পরিকল্পনা চলছে।

এখন এই বাড়ির বিগত ৫০ বৎসর ধরে দেখভাল করেন বয়স্ক দুলাল চন্দ্র মান্না বাবু ও যুবক টুবাই পতি। দুলাল বাবু শরৎ বাবুর দ্বিতীয় স্ত্রী হিরন্ময়ীদেবীর দেখভাল করার সুযোগ পেয়েছেন। উনার পূর্ব প্রজন্মের মানুষ সাহিত্যিক শরৎ বাবুর সেবা করেছেন।

শীতকালে নদীর চরে পিকনিকের যে স্পট রয়েছে। গোবিন্দ পুর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ঢালাই রাস্তা দিয়ে যাওয়া ব্যবস্থা ও আলোক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। নদীর পাড়ে পশ্চিমের সূর্যাস্তের পরিবেশ দেখতে মনোরম। বসার জন্য বেঞ্চ রয়েছে, সুলভ টয়লেট, জলের ব্যবস্থা, টিফিন স্টল পঞ্চায়েতের উদ্যোগে করা হয়েছে ।

পানিত্রাসে স্কুল মাঠে ফি বৎসর শরৎ মেলা হয় ২১ থেকে ২৮ জানুয়ারী । ভবিষ্যতে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠার জন্য নদীর পাড়ের শরৎচন্দ্র মহাশয়ের জমি ভারত সরকার অধিগ্রহণ করেছেন।

কথিত আছে জল পথে বিপ্লবীগণ শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায় মহাশয়ের সঙ্গে সভা করতে গোপনে আসতেন। একটা গোপন পথ বাড়ির পিছনে ছিল বলে জানা গেল। দেখলাম একটা খালের মতো অংশে নদীর যোগাযোগ ছিল বলে মনে হয়। একটা খাটা পায় খানা রয়েছে তার পাশে একটা গোপন পথ নাকি ছিল এখন বন্ধ করা আছে। একটা আমার ঘর ও রান্না ঘরের মতো ঘর রয়েছে। আমার ঘর দেখে মনে হয় ভালো চাষের জমিজমা ছিল। বাড়িতে একটা ঠাকুর চালার দাওয়ায় পূজো হত।

পাশে দেউলটি গ্রামে রয়েছে ১৬৫১ সালে নির্মিত আটচালার আদলে মদনমোহন জিউ মন্দির। সুন্দর পোড়া মাটির কারুকার্য খুব ভালো লাগবে।

সমাধি ক্ষেত্রের ফলকের লেখা গুলি তুলে ধরলাম
– – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – – –

স্বামী বেদানন্দ
জন্ম আষাঢ় ১২৯৪
মৃত্যু ১০ ই কার্তিক ১৩৩৩ সাল

হিরন্ময়ীদেবী
১৫ ই ভাদ্র ১৩৬৭ সাল

শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
১৫ই সেপ্টেম্বর ১৮৭৬ – ১৬ ই জানুয়ারী ১৯৩৮

উপন্যাস সম্রাট
ডাক্তার শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
জন্ম ৩১ শে ভাদ্র ১২৮৩ সাল
মৃত্যু ০২ রা মাঘ ১৩৪৪ সাল
– – – –

নীচের ছবি গুলো রূপনারায়ণ নদীর পাড়ে অবস্থিত সামতাবেড় (পানিত্রাস) গ্রামের। তখনকার দিনে বাড়ির সামনে দিয়ে রূপনারায়ণ নদী চলে যেত। পরে ১৯৭৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নদী একটু খাত পরিবর্তন করে দূরে চলে গেছে। তবু বাড়ির ছাদ থেকে এখনও নদী দেখা যায়। এখানে কথা শিল্পী শরৎ চন্দ্র মহাশয়ের মধ্য বয়সের দিন গুলো অতিবাহিত হয়। এখানে বসেই তিনি একাধিক কালজয়ী ছোট গল্প, প্রবন্ধ, নাটক রচনা করেছেন। যেমন ‘ ছেলেধরা ‘ গল্পটি রূপনারায়ণ নদীর সেতুর একটা কুপ্রথার ওপর লেখা হয়। কার্তিক গণেশের বাস যে পুকুরে সেই পুকুর এখানেই ছিল। ঐ সেতু ৱ নামকরণ করা হয়েছে ” শরৎ সেতু “। বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া ও পূর্ব মেদিনীপুর দুই জেলার সংযোগ রক্ষা করে চলেছে।
পরাধীন ভারতবর্ষে এই বাড়িতে বিপ্লবী গণের নিত্য যাতায়াত ছিল নেতাজী, দেশবন্ধু, ও অন্যান্য গুণীজনের । উনারা গোপনে জলপথে আসতেন।
বাড়িতে তাঁর ব্যবহৃত একাধিক আসবাবপত্র রয়েছে।


Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain