Robert Davenport (1594–1651)

Robert Davenport (1594–1651)

 

Robert Davenport (1594–1651)

রবার্ট ডেভেনপোর্ট (১৫৯৪–১৬৫১)


১. রবার্ট ডেভেনপোর্ট সপ্তদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগের ইংরেজ নাট্যকার ও গীতিকবি। তাঁর জন্ম ১৫৯৪ সালে এবং মৃত্যু ১৬৫১ সালে। প্রাথমিক জীবন ও শিক্ষা সম্পর্কে খুব কম তথ্য পাওয়া যায়। তিনি ‘জেন্টেলম্যান’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ক্যারোলাইন যুগে তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং রাজতন্ত্রপন্থী রাজনৈতিক কবিতা রচনা করেছেন। তাঁর নাটকে সুষম কাঠামো ও গতিশীল প্লটের জন্য তিনি বিখ্যাত।

২. ডেভেনপোর্ট ক্যারোলাইন যুগের নাট্যসাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি। তিনি রানি হেনরিয়েটার মেনদের জন্য নাটক লিখেছেন। তাঁর রচনায় রাজনৈতিক ও নৈতিক থিম প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি সুগঠিত নাটকীয় কাঠামো তৈরি করতে পারদর্শী ছিলেন। চরিত্র নির্মাণে তাঁর দক্ষতা ছিল উল্লেখযোগ্য। তাঁর কবিতায় রাজপরিবারের প্রতি সমর্থন স্পষ্ট।

৩. তাঁর সবচেয়ে পরিচিত নাটক ‘দ্য সিটি নাইটক্যাপ’ ১৬২৪ সালে লাইসেন্স হয় এবং ১৬৬১ সালে প্রকাশিত হয়। এটি একটি ট্র্যাজিকমেডি। নাটকটিতে ঈর্ষা, বিশ্বাস ও মানবিক দুর্বলতার থিম আছে। বোকাচ্চিও ও সার্ভান্তেস থেকে অনুপ্রাণিত হয়েছে। প্লটের কাঠামো খুবই সুষম ও আকর্ষণীয়।

৪. ‘দ্য সিটি নাইটক্যাপ’-এ ‘ক্রেদে কোয়ড হাবেস’ অর্থাৎ ‘যা আছে তাই বিশ্বাস কর’—এই ধারণা কেন্দ্রীয়। নাটকটি বিশ্বাসঘাতকতা ও প্রতারণার গল্প বলে। ডেভেনপোর্ট এখানে চরিত্রের মানসিক দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাঁর স্ট্রাকচারাল দক্ষতায় প্লট এগিয়ে চলে স্বাভাবিক গতিতে।

৫. ‘কিং জন অ্যান্ড মাতিল্ডা’ ডেভেনপোর্টের ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডি। ১৬৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। এতে রাজা জন ও মাতিল্ডা ফিটজওয়াল্টারের কাহিনি আছে। নাটকটি কামনা, অনুতাপ ও নৈতিকতার দ্বন্দ্ব দেখায়। চার্লস ল্যাম্ব এই নাটকের শেষ দৃশ্যের প্রশংসা করেছেন।

৬. ‘কিং জন অ্যান্ড মাতিল্ডা’-তে ডেভেনপোর্ট রাজকীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিগত অনুতাপের থিম তুলে ধরেছেন। মাতিল্ডা চরিত্রটি সতীত্ব ও প্রতিরোধের প্রতীক। নাটকের কাঠামো খুবই শক্তিশালী ও নাটকীয়। এটি পূর্ববর্তী রবিন হুড নাটকের পুনর্লিখন হিসেবে বিবেচিত।

৭. ‘এ নিউ ট্রিক টু চিট দ্য ডেভিল’ ১৬৩৯ সালে প্রকাশিত একটি ফার্স। এতে প্রতারণা ও বুদ্ধির খেলা আছে। নাটকটি হালকা ও বিনোদনমূলক হলেও ডেভেনপোর্টের প্লট নির্মাণের দক্ষতা দেখায়। চরিত্রগুলো জীবন্ত ও স্পষ্ট।

৮. ডেভেনপোর্টের অনেক নাটক হারিয়ে গেছে। ‘দ্য পাইরেট’ নাটকটি শেক্সপিয়রের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল। ‘হেনরি প্রথম’ ও ‘হেনরি দ্বিতীয়’ নাটকের উল্লেখ আছে কিন্তু সেগুলো টিকে নেই। তাঁর সৃজনশীলতার পরিধি ছিল বিস্তৃত।

৯. ডেভেনপোর্ট ১৬৩৯ সালে দুটি কবিতার বই প্রকাশ করেন। ‘এ ক্রাউন ফর আ কনকারার’ একটি ধর্মীয় ও প্যানেজিরিক কবিতা। এতে প্রিন্স চার্লসের স্পেন যাত্রার প্রশংসা আছে। এটি তাঁর রাজতন্ত্রপন্থী দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ করে।

১০. ‘টু লেট টু কল ব্যাক ইয়েস্টারডে’ একটি নৈতিক সংলাপ। এতে অতীতের ভুল ফিরিয়ে আনা যায় না—এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। ডেভেনপোর্টের কবিতায় নৈতিক ও রাজনৈতিক চেতনা মিশে আছে। তিনি লিরিক কবিতার মাধ্যমে রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন।

১১. ডেভেনপোর্টের ‘এ সার্ভে অব দ্য সায়েন্সেস’ পাণ্ডুলিপি আকারে টিকে আছে। এটি পরে প্রকাশিত হয়। তাঁর কবিতায় বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও রাজনীতির মিশ্রণ দেখা যায়। তিনি লিরিক কবিতায় রাজতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেছেন।

১২. ডেভেনপোর্টকে স্ট্রাকচারাল প্লেড্রাইট বলা হয় কারণ তাঁর নাটকের প্লট খুব সুষম ও যৌক্তিক। তিনি অ্যাকশনকে গতিশীল রাখতে পারতেন। চরিত্রের মানসিক বিকাশ ও দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতেন। এটি তাঁর বিশেষ শৈলী।

১৩. তাঁর নাটকে রাজনৈতিক থিম প্রাধান্য পায়। রাজকীয় ক্ষমতা, অনুতাপ ও নৈতিকতার প্রশ্ন তিনি তুলেছেন। ‘কিং জন অ্যান্ড মাতিল্ডা’তে রাজতন্ত্রের দুর্বলতা ও শক্তি দুটোই দেখানো হয়েছে। তিনি রাজতন্ত্রপন্থী হলেও সমালোচনামূলক দৃষ্টি রেখেছেন।

১৪. ডেভেনপোর্টের যুগে ইংল্যান্ডে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। তাঁর নাটক ও কবিতায় রাজতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য দেখা যায়। তিনি প্রিন্স চার্লসকে নিয়ে প্যানেজিরিক লিখেছেন। এটি তাঁকে রয়্যালিস্ট কবি হিসেবে চিহ্নিত করে।

১৫. চার্লস ল্যাম্ব ডেভেনপোর্টের ‘কিং জন অ্যান্ড মাতিল্ডা’র প্রশংসা করেছেন। তিনি বলেছেন, নাটকটির শেষ দৃশ্য খুবই শক্তিশালী। ডেভেনপোর্টের অনুতাপের চিত্রণ ছিল হৃদয়স্পর্শী। এটি তাঁর সাহিত্যিক সাফল্যের প্রমাণ।

১৬. ডেভেনপোর্টের নাটকে নারী চরিত্রগুলো শক্তিশালী। মাতিল্ডা সতীত্ব ও প্রতিরোধের প্রতীক হয়ে ওঠে। তিনি নারীর মর্যাদা ও নৈতিক শক্তি তুলে ধরেছেন। এটি তাঁর আধুনিকতার দিক।

১৭. তাঁর প্লট নির্মাণে শেক্সপিয়রীয় প্রভাব আছে কিন্তু নিজস্ব স্টাইল আছে। তিনি ধার করা উপাদানকে নতুন কাঠামোয় সাজিয়েছেন। ‘দ্য সিটি নাইটক্যাপ’ এর উদাহরণ। তাঁর স্ট্রাকচারাল দক্ষতা তাঁকে আলাদা করে।

১৮. ডেভেনপোর্টের কবিতায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা আছে। ‘এ ক্রাউন ফর আ কনকারার’ আত্মার জয় ও পাপের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কথা বলে। এটি রাজনৈতিক প্যানেজিরিকের সঙ্গে মিশে আছে।

১৯. তিনি ছিলেন একজন লিরিক কবি যিনি রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন। রাজতন্ত্রের পক্ষে তাঁর কবিতা লেখা হয়েছে। এটি ক্যারোলাইন যুগের রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। তাঁর কবিতা সহজ ও প্রভাবশালী।

২০. ডেভেনপোর্টের নাটকগুলোতে গতিশীল অ্যাকশন ও চরিত্রের বিকাশ দেখা যায়। তিনি দর্শককে ধরে রাখতে পারতেন। তাঁর স্ট্রাকচারাল পদ্ধতি পরবর্তী নাট্যকারদের প্রভাবিত করেছে।

২১. তাঁর যুগে থিয়েটার ছিল রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার মাধ্যম। ডেভেনপোর্ট এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন। তাঁর নাটকে রাজতন্ত্রের পক্ষে ও বিপক্ষে দ্বন্দ্ব আছে। এটি তাঁকে গভীর করে তোলে।

২২. ডেভেনপোর্টের অবদান অনেকাংশে অস্পষ্ট থেকে গেছে কারণ অনেক নাটক হারিয়ে গেছে। তবু তিনটি নাটক টিকে থাকায় তাঁর প্রতিভা প্রমাণিত। তিনি স্ট্রাকচারাল নাট্যকার হিসেবে স্মরণীয়।

২৩. ‘দ্য সিটি নাইটক্যাপ’ পরবর্তীকালে অ্যাফ্রা বেহনের নাটকে প্রভাব ফেলেছে। ডেভেনপোর্টের থিম ও কাঠামো পরবর্তী লেখকদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর প্রভাব ছিল সূক্ষ্ম কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ।

২৪. ডেভেনপোর্ট ছিলেন রয়্যালিস্ট কবি। তিনি প্রিন্স চার্লসকে নিয়ে কবিতা লিখেছেন। এটি তাঁর রাজনৈতিক আনুগত্য দেখায়। ক্যারোলাইন যুগের রাজনৈতিক উত্তালতায় তিনি রাজতন্ত্রের পক্ষে ছিলেন।

২৫. তাঁর নাটকে মানবিক দুর্বলতা ও শক্তির দ্বন্দ্ব সুন্দরভাবে ফুটেছে। অনুতাপের থিম তিনি বারবার ব্যবহার করেছেন। এটি তাঁর নৈতিক দর্শনের প্রকাশ।

২৬. ডেভেনপোর্টের ভাষা সহজ ও প্রাঞ্জল। তিনি জটিল দার্শনিক চিন্তা সাধারণ দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে পারতেন। এটি তাঁর সাফল্যের অন্যতম কারণ।

২৭. তিনি ছিলেন একজন স্ট্রাকচারাল প্লেড্রাইট যিনি প্লটের যৌক্তিক বিকাশে বিশ্বাসী ছিলেন। অপ্রয়োজনীয় উপাদান বাদ দিয়ে মূল কাহিনি এগিয়ে নিয়ে যেতেন। এটি তাঁর আধুনিকতার লক্ষণ।

২৮. ডেভেনপোর্টের কবিতা ও নাটক মিলিয়ে তাঁর সাহিত্যিক ব্যক্তিত্ব পূর্ণ হয়। তিনি লিরিক কবিতায় রাজনৈতিক চেতনা ও নাটকে মানবিক দ্বন্দ্ব তুলে ধরেছেন। এটি তাঁকে বহুমাত্রিক করে।

২৯. আজও ডেভেনপোর্টের নাটক পাঠ ও অভিনয়ের যোগ্য। তাঁর স্ট্রাকচারাল দক্ষতা ও রাজতন্ত্রপন্থী চেতনা ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দলিল। তিনি ক্যারোলাইন যুগের একজন প্রতিনিধি লেখক।

৩০. রবার্ট ডেভেনপোর্ট সুষম নাটকীয় কাঠামো, রাজতন্ত্রপন্থী কবিতা ও মানবিক থিমের জন্য স্মরণীয়। তাঁর অবদান ইংরেজ সাহিত্যের ইতিহাসে স্থায়ী স্থান করে নিয়েছে। তিনি ছিলেন একজন সত্যিকারের স্ট্রাকচারাল প্লেড্রাইট ও রয়্যালিস্ট লিরিক কবি।



Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain