William Browne (c. 1590–1645)

William Browne (c. 1590–1645)

 

William Browne (c. 1590–1645)

উইলিয়াম ব্রাউন (আনু. ১৫৯০–১৬৪৩)

১. উইলিয়াম ব্রাউন ষোড়শ শতাব্দীর শেষ দিকে ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারের টেভিস্টক শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর জন্মসাল আনুমানিক এক হাজার পাঁচশ নব্বই সাল। তিনি ছিলেন একজন প্রতিভাধর পাস্টোরাল কবি। ডেভনের সবুজ প্রকৃতি ও নদীর ধারে তাঁর শৈশব কাটে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কবিতায় প্রকৃতির জীবন্ত বর্ণনা এনে দেয়। তিনি জন কিটসের মতো কবিদের পথপ্রদর্শক হয়েছিলেন।

২. ব্রাউন অক্সফোর্ডের এক্সেটার কলেজে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। পরবর্তীকালে তিনি ইনার টেম্পলে আইন অধ্যয়ন করেন। সতেরো শতকের গোড়ার দিকে তাঁর সাহিত্যিক জীবন শুরু হয়। শাস্ত্রীয় সাহিত্য ও ইংরেজি পাস্টোরাল ঐতিহ্য তাঁকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। মাইকেল ড্রেটনের সান্নিধ্যে তিনি কবিতার কলাকৌশল শেখেন। এই শিক্ষা তাঁর রচনার ভিত্তি গড়ে তোলে।

৩. তাঁর সাহিত্যজীবন শুরু হয় ১৬১৩ সালে। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ রচনা ব্রিটানিয়াস পাস্টোরালসের প্রথম খণ্ড প্রকাশিত হয়। এতে তিনি ইংল্যান্ডের গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরেন। স্পেনসারের অনুসরণে তিনি পাস্টোরাল রূপক ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষা প্রবাহময় ও সুরেলা। এই রচনা তাঁকে সাহিত্যিক খ্যাতি এনে দেয়।

৪. ব্রিটানিয়াস পাস্টোরালসের প্রথম খণ্ড ১৬১৩ সালে প্রকাশিত হয়। এতে সেলিয়া, মেরিনার মতো চরিত্রের প্রেম ও দুঃখকাহিনি বর্ণিত হয়েছে। গল্পের মধ্যে ডেভনের নদী-পাহাড়ের সুন্দর চিত্র ফুটে উঠেছে। গান ও বর্ণনামূলক অংশ মিশ্রিত রয়েছে। এই খণ্ড তাঁর প্রকৃতি-প্রেম ও ছন্দের দক্ষতা প্রমাণ করে।

৫. দ্বিতীয় খণ্ড ১৬১৬ সালে প্রকাশিত হয়। এতে পূর্ববর্তী চরিত্রদের কাহিনি আরও বিস্তারিত হয়েছে। প্রকৃতির বর্ণনা আরও সমৃদ্ধ ও জীবন্ত হয়েছে। তিনি ইংরেজি গ্রামের ঋতু পরিবর্তন ও পশুপাখির ছবি আঁকেন। এই খণ্ডেও স্পেনসারীয় আদর্শ বজায় রাখা হয়েছে। পাঠক প্রকৃতির সান্নিধ্য অনুভব করেন।

৬. ১৬১৪ সালে দ্য শেফার্ডস পাইপ প্রকাশিত হয়। ব্রাউন এতে কয়েকটি ইক্লগ লেখেন। জর্জ উইদারের সঙ্গে যৌথভাবে এই সংকলন তৈরি হয়। এতে মেষপালকদের জীবন ও প্রকৃতির সরল সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে। তাঁর অবদান ছন্দময় ও আবেগপূর্ণ। এই রচনা তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়।

৭. ব্রাউন স্পেনসারের অনুসারী ছিলেন। তিনি স্পেনসারীয় পাস্টোরাল ধারা অনুসরণ করেন। রূপক, পৌরাণিক চরিত্র ও গ্রামীণ প্রেক্ষাপট তাঁর রচনায় প্রাধান্য পায়। তবে তিনি ডেভনের স্থানীয় প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে নতুনত্ব আনেন। তাঁর ভাষা স্পেনসারের চেয়ে আরও প্রবাহময়। এই ধারা তাঁকে স্বতন্ত্র করে তোলে।

৮. প্রকৃতির বর্ণনায় ব্রাউন অসাধারণ দক্ষতা দেখিয়েছেন। তাভি নদী, সবুজ তৃণভূমি ও ঋতুর পরিবর্তন তাঁর কলমে জীবন্ত হয়েছে। তিনি প্রকৃতির ঘটনাবলি সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। বর্ণনা সমৃদ্ধ, সুরেলা ও চিত্রময়। এই গুণ তাঁকে পরবর্তী কবিদের কাছে প্রিয় করে তোলে।

৯. তাঁর ছন্দ অত্যন্ত সুরেলা ও প্রবাহময়। কবিতার লাইনগুলো সহজে পাঠযোগ্য ও আবেগপূর্ণ। তিনি ঐতিহ্যবাহী ছন্দের সঙ্গে নিজস্ব সুর মিশিয়েছেন। বর্ণনামূলক অংশে ছন্দ প্রকৃতির গতির সঙ্গে মিলে যায়। এই সুরেলা গুণ তাঁর কবিতাকে স্মরণীয় করে রেখেছে।

১০. জন কিটস ব্রাউনের প্রকৃতি বর্ণনায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। কিটসের প্রথম দিকের কবিতায় ব্রাউনের প্রভাব স্পষ্ট। ব্রাউনের ছন্দময় ও চিত্রময় শৈলী কিটসকে পথ দেখিয়েছে। কিটস প্রকৃতিকে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে শিখেছিলেন। এই প্রভাব কিটসের কাব্যিক বিকাশে সহায়ক হয়।

১১. কিটস ১৮১৭ সালের কবিতার সংকলনে ব্রাউনের একটি উক্তি মোটো হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি ব্রিটানিয়াস পাস্টোরালস থেকে নেওয়া। এই মোটো কিটসের প্রকৃতি-প্রেম ও শৈলীর ঋণ স্বীকার করে। ব্রাউনের বর্ণনা কিটসের কল্পনাকে উদ্দীপ্ত করেছিল। এই সম্পর্ক সাহিত্য ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ।

১২. ব্রাউন মাইকেল ড্রেটন ও জর্জ উইদারের সঙ্গে বন্ধুত্ব করেছিলেন। তাঁরা একসঙ্গে সাহিত্য চর্চা করতেন। ড্রেটন তাঁকে উৎসাহ দিতেন। উইদারের সঙ্গে যৌথ রচনা তাঁর প্রতিভা বিকাশে সাহায্য করে। এই বন্ধুত্ব সতেরো শতকের কাব্যিক পরিবেশকে সমৃদ্ধ করেছে।

১৩. ১৬২৮ সালে ব্রাউন স্যার টমাস এভারশামের কন্যা টিমোথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তাঁর সাহিত্যিক কর্মকাণ্ড কমে যায়। তিনি সারের ডর্কিংয়ের কাছে অবসর জীবন যাপন করেন। পরিবারিক জীবন ও শান্ত পরিবেশ তাঁর পরবর্তী দিনগুলোকে প্রভাবিত করে।

১৪. জীবনের দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাউন সাহিত্য থেকে কিছুটা দূরে সরে যান। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত কারণে তিনি নির্জনতা পছন্দ করতেন। তবু তাঁর প্রকৃতি-প্রেম অটুট ছিল। অবসর জীবনে তিনি ডেভনের স্মৃতি নিয়ে বাস করতেন। এই সময় তাঁর নতুন বড় রচনা আর আসেনি।

১৫. ব্রাউন ১৬৪৩ সালের দিকে মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর সঠিক তারিখ নিয়ে মতভেদ আছে। ১৬৪৫ সালের আগেই তিনি মারা যান। তাঁর স্ত্রীকে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। টেভিস্টকে তাঁর সমাধি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর মৃত্যুর পর কবিতা দীর্ঘদিন অপ্রকাশিত থাকে।

১৬. তাঁর উত্তরাধিকার প্রকৃতি বর্ণনার জন্য স্মরণীয়। মিল্টন ও কিটসের মতো কবিরা তাঁর দ্বারা প্রভাবিত হয়েছেন। ব্রাউন ইংরেজি পাস্টোরাল কবিতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। তাঁর বর্ণনামূলক শৈলী পরবর্তী যুগে প্রশংসিত হয়। আজও তিনি প্রকৃতি-কবি হিসেবে পঠিত হন।

১৭. ব্রিটানিয়াস পাস্টোরালসের তৃতীয় খণ্ড অসমাপ্ত ছিল। পাণ্ডুলিপি উনিশ শতকে ১৮৫২ সালে প্রকাশিত হয়। এতে কাহিনি আরও এগিয়েছে কিন্তু সম্পূর্ণ হয়নি। তবু বর্ণনামূলক অংশগুলো অসাধারণ। এই খণ্ড তাঁর অসমাপ্ত প্রতিভার সাক্ষ্য বহন করে।

১৮. ডেভনশায়ারের প্রতি ব্রাউনের গভীর ভালোবাসা ছিল। তাভি নদীর প্রশংসায় তিনি বারবার ফিরে এসেছেন। স্থানীয় ইতিহাস ও প্রকৃতিকে তিনি পৌরাণিক রূপকের সঙ্গে মিশিয়েছেন। এই স্থানীয় প্রেম তাঁর কবিতাকে সার্বজনীন করে তুলেছে। ডেভন তাঁর কাব্যিক অনুপ্রেরণার উৎস।

১৯. তাঁর কবিতা মূলত বর্ণনামূলক। চরিত্রের কাহিনি দুর্বল হলেও প্রকৃতির চিত্র অসাধারণ। তিনি গ্রামীণ দৃশ্য, ঋতু ও প্রাণীজগতের সঠিক ছবি আঁকেন। এই গুণ তাঁকে অন্য পাস্টোরাল কবিদের থেকে আলাদা করে। পাঠক প্রকৃতির সান্নিধ্য অনুভব করেন।

২০. আধুনিক পাঠকের কাছে ব্রাউনের গুরুত্ব তাঁর প্রকৃতি-দর্শনে। তিনি প্রকৃতিকে শুধু পটভূমি নয়, জীবন্ত অংশীদার করে তুলেছেন। কিটসের মতো কবিদের পথপ্রদর্শক হিসেবে তিনি চিরস্মরণীয়। তাঁর সুরেলা ভাষা ও চিত্রময়তা আজও প্রাসঙ্গিক। ব্রাউন ইংরেজি কাব্যের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন।

উইলিয়াম ব্রাউন (William Browne, আনুমানিক ১৫৯১ – ১৬৪৩) জীবনী: ইংরেজ পাস্টোরাল কবি যাঁর প্রকৃতির জীবন্ত ও ছন্দময় বর্ণনা জন কিটসকে পথ দেখিয়েছিলেন উইলিয়াম ব্রাউন সতেরো শতকের প্রথমার্ধের একজন উল্লেখযোগ্য ইংরেজ পাস্টোরাল কবি। তিনি এডমন্ড স্পেনসারের অনুসারী হলেও নিজস্ব স্বকীয়তায় ডেভনশায়ারের স্থানীয় প্রকৃতি ও গ্রামীণ জীবনকে কাব্যে জীবন্ত করে তুলেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত রচনা *Britannia's Pastorals*-এর প্রকৃতির বর্ণনা এতটাই স্পষ্ট, ছন্দময় ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য যে পরবর্তীকালে জন কিটসের মতো রোমান্টিক কবি তাঁর দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। ব্রাউনের কবিতা আজও ইংরেজি সাহিত্যের ইতিহাসে প্রকৃতি-চিত্রণের এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয়। জন্ম, পরিবার ও প্রাথমিক জীবন উইলিয়াম ব্রাউন আনুমানিক ১৫৯১ সালে ইংল্যান্ডের ডেভনশায়ারের টেভিস্টক (Tavistock) শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সারের বেচওয়ার্থ ক্যাসলের ব্রাউন পরিবারের এক শাখার সন্তান ছিলেন। টেভিস্টকের গ্রামার স্কুলে তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। শৈশব থেকেই ডেভনের সবুজ প্রকৃতি, তাভি (Tavy) নদীর কলকল শব্দ, পাহাড়-বন ও গ্রামীণ জীবন তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। পরবর্তীকালে তিনি নিজের কবিতায় বারবার এই স্থানীয় দৃশ্যাবলিকে ফিরিয়ে এনেছেন এবং “Tavy’s voiceful stream”-এর প্রশংসা করেছেন। শিক্ষা ও লন্ডনে আগমন প্রাথমিক শিক্ষার পর ব্রাউন আনুমানিক ১৬০৩ সালের দিকে অক্সফোর্ড যান। কিছুদিন ক্লিফোর্ডস ইন-এ থেকে ১৬১১ সালে তিনি ইনার টেম্পলে (Inner Temple) প্রবেশ করেন। এখানে আইন অধ্যয়নের পাশাপাশি সাহিত্য ও কাব্যচর্চা তাঁর প্রধান আকর্ষণ হয়ে ওঠে। লন্ডনের সাহিত্যিক পরিমণ্ডলে তিনি মাইকেল ড্রেটনের সান্নিধ্য পান। ড্রেটন তাঁকে “my Browne” বলে সম্বোধন করে “Epistle to Henry Reynolds”-এ নিজের প্রিয় সঙ্গী হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। এই সময় থেকেই ব্রাউনের কাব্যিক প্রতিভা বিকশিত হতে থাকে। সাহিত্যিক অভিষেক ও ব্রিটানিয়াস পাস্টোরালস ১৬১৩ সালে ব্রাউনের সাহিত্যিক জীবনের সূচনা হয়। এই বছর তিনি প্রিন্স হেনরির মৃত্যুতে একটি শোকগাথা (elegy) এবং *Britannia's Pastorals*-এর প্রথম খণ্ড প্রকাশ করেন। ১৬১৬ সালে দ্বিতীয় খণ্ড প্রকাশিত হয়, যা উইলিয়াম হার্বার্ট, আর্ল অব পেমব্রোককে উৎসর্গ করা হয়। কিছু সময় তিনি পেমব্রোকের উইল্টন এস্টেটে বাস করেন। *Britannia's Pastorals* ব্রাউনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ রচনা। এটি স্পেনসারের অনুসরণে রচিত একটি পাস্টোরাল আখ্যানকাব্য। গল্পের কেন্দ্রে রয়েছে সেলিয়া, মেরিনা, ডোরিডন প্রভৃতি চরিত্রের প্রেম, দুঃখ ও দুঃসাহসিকতার কাহিনি। আখ্যানের মধ্যে গান (songs) সন্নিবেশিত রয়েছে। যদিও কাহিনির সংগতি ও চরিত্র-বিকাশ দুর্বল বলে সমালোচিত হয়েছে, প্রকৃতির বর্ণনা ও গ্রামীণ দৃশ্যাবলি অসাধারণ। ব্রাউন ডেভনশায়ারের প্রকৃতিকে আর্কেডিয়ার রূপ দিয়েছেন। তাভি নদী, ঋতু পরিবর্তন, পশুপাখি ও নাবিকদের বীরত্বের চিত্র তিনি অত্যন্ত জীবন্তভাবে এঁকেছেন। তৃতীয় খণ্ড তাঁর জীবদ্দশায় অপ্রকাশিত ছিল। পাণ্ডুলিপিটি উনিশ শতকে স্যালিসবারি ক্যাথেড্রালের গ্রন্থাগারে আবিষ্কৃত হয় এবং ১৮৫২ সালে টি. সি. ক্রোকার সম্পাদিত করে পার্সি সোসাইটির জন্য প্রকাশ করেন। অন্যান্য রচনা ১৬১৪ সালে জর্জ উইদার ও অন্যান্যদের সঙ্গে যৌথভাবে *The Shepherd's Pipe* প্রকাশিত হয়। এতে ব্রাউন কয়েকটি ইক্লগ (eclogues) লেখেন। ১৬১৫ সালে তিনি ইনার টেম্পল মাস্ক রচনা করেন, যার বিষয় ইউলিসিস ও সার্সির কাহিনি। এটি ১৩ জানুয়ারি ১৬১৫-এ পরিবেশিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাঁর অন্যান্য রচনার মধ্যে রয়েছে সেলিয়াকে উদ্দেশ্য করে সনেট, এপিসেল, শোকগাথা ও বিবিধ কবিতা। সবচেয়ে বিখ্যাত ছোট রচনাটি হলো কাউন্টেস ডাউager অব পেমব্রোক (মেরি হার্বার্ট)-এর জন্য লেখা এপিটাফ: “Underneath this sable hearse Lies the subject of all verse: Sidney's sister, Pembroke's mother...” কাব্যিক শৈলী ও থিম ব্রাউন স্পেনসার, সিডনি ও জন ফ্লেচারের প্রভাব গ্রহণ করলেও নিজস্ব স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেছেন। তাঁর কবিতার প্রধান শক্তি প্রকৃতির সত্যনিষ্ঠ ও আবেগময় চিত্রায়ণে। তিনি ইংরেজ গ্রামের দৈনন্দিন দৃশ্য — ঋতুর পরিবর্তন, নদীর প্রবাহ, বনের ছায়া, পাখির ডাক — অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যভাবে বর্ণনা করেছেন। ছন্দ প্রবাহময় ও সুরেলা। ভাষা সহজ কিন্তু সমৃদ্ধ। তবে আখ্যানের সংগতি ও নাটকীয়তায় তিনি দুর্বল। চরিত্রগুলো প্রায়শই একে অপরের সঙ্গে মিশে যায়। সমালোচকরা বলেছেন, বর্ণনামূলক অংশে তিনি অসাধারণ, কিন্তু গল্প বলার ক্ষমতায় কম সফল। তবু তাঁর “truthful, affectionate pictures of country life” পাঠককে আজও আকর্ষণ করে। ব্যক্তিগত জীবন, বিবাহ ও পরবর্তীকাল ১৬২৪ সালে ব্রাউন অক্সফোর্ডে ফিরে যান রবার্ট ডর্মার (পরবর্তীকালে আর্ল অব কার্নারভন)-এর গৃহশিক্ষক হিসেবে। একই বছর এক্সেটার কলেজ থেকে এম.এ. ডিগ্রি লাভ করেন। ১৬২৮ সালে তিনি স্যার টমাস এভারশামের কন্যা টিমোথির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিবাহের পর তাঁর সাহিত্যিক উৎপাদনশীলতা অনেকাংশে কমে যায়। জীবনের দ্বিতীয়ার্ধ তিনি সারের ডর্কিংয়ের কাছে নির্জন অবসর জীবন যাপন করেন। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ব্যক্তিগত পছন্দের কারণে তিনি শান্ত, নিরিবিলি পরিবেশ পছন্দ করতেন। মৃত্যু ব্রাউন ১৬৪৩ সালের দিকে মৃত্যুবরণ করেন (কিছু সূত্রে ১৬৪৫ সালের আগে)। ১৬৪৫ সালে তাঁর বিধবা স্ত্রীর নামে প্রশাসনিক দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্ভবত ২৭ মার্চ ১৬৪৩ তারিখে টেভিস্টকে তাঁর সমাধি রয়েছে। জন কিটসের উপর প্রভাব ব্রাউনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উত্তরাধিকার তাঁর প্রকৃতি-বর্ণনার মাধ্যমে জন কিটসকে প্রভাবিত করা। কিটস ব্রাউনের একনিষ্ঠ পাঠক ছিলেন। ১৮১৭ সালে প্রকাশিত কিটসের প্রথম কবিতা সংকলনে (*Poems*) তিনি *Britannia's Pastorals* থেকে একটি উদ্ধৃতি তাঁর এপিসেল (Epistles) অংশের মোটো হিসেবে ব্যবহার করেন। কিটসের প্রথম দিকের কবিতায় — বিশেষ করে প্রকৃতির ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য ও ছন্দময় বর্ণনায় — ব্রাউনের স্পষ্ট প্রতিধ্বনি পাওয়া যায়। কিটস যেমন প্রকৃতিকে কেবল পটভূমি নয়, বরং জীবন্ত, সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, তেমনি ব্রাউনও ডেভনের নদী, বন ও ঋতুকে অসাধারণ সূক্ষ্মতায় চিত্রিত করেছিলেন। ব্রাউনের “rich and flowing” ভাষা ও “intense pleasure in a fine line or a fine phrase” কিটসের কাব্যিক সংবেদনশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। সমালোচকরা মনে করেন, ব্রাউন কিটসকে প্রকৃতির প্রতি আরও মনোযোগী ও ইন্দ্রিয়নির্ভর করে তুলেছিলেন। আধুনিক মূল্যায়ন ও উত্তরাধিকার ব্রাউনের রচনা তাঁর জীবদ্দশায় সীমিত সমাদর পেলেও পরবর্তীকালে তাঁর প্রকৃতি-চিত্রণের জন্য প্রশংসিত হয়। জন মিল্টন তাঁর *Britannia's Pastorals*-এর একটি কপিতে টীকা লিখেছিলেন এবং *Lycidas*-এর সঙ্গে ব্রাউনের শোকগাথার মিল লক্ষ করা যায়। রবার্ট হেরিকের পরীরূপক কল্পনায়ও তৃতীয় খণ্ডের প্রভাব থাকতে পারে বলে মনে করা হয়। ঊনবিংশ শতকে বই তিন প্রকাশিত হলে নতুন করে আগ্রহ জাগে। উনিশ শতকে জন ডেভিস, ডব্লিউ. সি. হ্যাজলিট ও গর্ডন গুডউইন সম্পাদিত সংকলন প্রকাশিত হয়। আধুনিক সমালোচকরা তাঁকে “minor poet” বললেও প্রকৃতির সত্যনিষ্ঠ ও আবেগময় চিত্রায়ণের জন্য তাঁকে সম্মান জানান। তিনি ইংরেজি পাস্টোরাল কবিতার ঐতিহ্যকে স্থানীয় রং ও সংবেদনশীলতা দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন। উইলিয়াম ব্রাউন ছিলেন একজন শান্ত, প্রকৃতিপ্রেমী কবি যিনি ডেভনের সবুজ প্রান্তর ও তাভি নদীর কলতানকে অমর করে রেখেছেন। তাঁর আখ্যান দুর্বল হলেও বর্ণনার শক্তি অসাধারণ। সবচেয়ে বড় অবদান — জন কিটসের মতো একজন মহান কবিকে প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ ও ছন্দময় বর্ণনার শিল্প শেখানো। ব্রাউন আজও সেই কবি হিসেবে স্মরণীয় যিনি ইংরেজি কাব্যে প্রকৃতিকে কেবল দেখেননি, অনুভব করেছেন এবং অনুভব করাতে শিখিয়েছেন। তাঁর রচনা পাঠ করলে আজকের পাঠকও ডেভনের সেই সোনালি যুগের গ্রামীণ সৌন্দর্য ও কাব্যিক আবেগের স্বাদ পান — যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে অম্লান রয়ে গেছে।

Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain