Joel Barlow (1754–1812)

Joel Barlow (1754–1812)

 

Joel Barlow (1754–1812)

Joel Barlow (1754–1812)

জোয়েল বার্লো ১৭৫৪ সালের ২৪ মার্চ কানেটিকাটের রেডিং শহরে এক সাধারণ কৃষক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি খামারের কাজে সাহায্য করতেন এবং প্রকৃতির সান্নিধ্যে বড় হয়ে ওঠেন। ইয়েল কলেজে ভর্তি হয়ে ১৭৭৮ সালে স্নাতক হন। সেখানে তিনি সাহিত্য ও দর্শনে গভীর আগ্রহী হয়ে ওঠেন এবং সহপাঠীদের সঙ্গে আলোচনায় মেতে থাকতেন।

আমেরিকান বিপ্লবী যুদ্ধ শুরু হলে তিনি কন্টিনেন্টাল আর্মিতে চ্যাপ্লেইন হিসেবে যোগ দেন। যুদ্ধের সময় সৈন্যদের মনোবল বাড়ানোর জন্য ধর্মীয় উপদেশ দিতেন এবং স্বাধীনতার জন্য সংগ্রামের গুরুত্ব বোঝাতেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা ও দেশপ্রেমের অনুভূতি তাঁর মনে গভীর ছাপ ফেলে। এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আমেরিকার ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করে। যুদ্ধ শেষে তিনি আইনজীবী হিসেবে কাজ শুরু করেন কিন্তু সাহিত্যের প্রতি তাঁর আকর্ষণ অটুট থাকে।

তাঁর প্রারম্ভিক জীবনের এই সংগ্রাম ও দেশপ্রেম পরবর্তীকালে তাঁর কূটনৈতিক ও কাব্যিক কর্মকাণ্ডের ভিত্তি হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আমেরিকাকে একটি নতুন জাতি হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন যেখানে স্বাধীনতা ও প্রগতি বিরাজ করবে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁর পরবর্তী সাহিত্যকর্মে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয় এবং তাঁকে হার্টফোর্ড উইটস গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত করে। হার্টফোর্ড উইটস গোষ্ঠীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তাঁর সাহিত্যিক জীবনকে আরও সমৃদ্ধ করে তোলে। এই গোষ্ঠীর অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে তিনি আমেরিকান সাহিত্যের স্বাতন্ত্র্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতেন। তারা ইউরোপীয় সাহিত্যের অনুকরণ না করে নিজস্ব দেশীয় বিষয় নিয়ে লিখতে উৎসাহ দিতেন। বার্লো এই সময় কয়েকটি প্রারম্ভিক কবিতা রচনা করেন যেখানে বিপ্লবী চেতনা ও আমেরিকার সম্ভাবনা ফুটে ওঠে।

তাঁর মনে একটি বৃহৎ মহাকাব্য রচনার স্বপ্ন জাগে যা আমেরিকার আবিষ্কার থেকে ভবিষ্যৎ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা তাঁকে ইউরোপে যাওয়ার পরও তাড়িত করে। হার্টফোর্ড উইটসদের সঙ্গে আলোচনা তাঁকে শেখায় কীভাবে কবিতার মাধ্যমে জাতীয় চেতনা গড়ে তোলা যায়। এই সময়ের অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী কূটনৈতিক জীবনেও সাহায্য করে কারণ তিনি আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় দৃঢ় থাকতে শেখেন। তাঁর এই সাহিত্যিক প্রস্তুতি পরবর্তীকালে ‘দ্য ভিশন অব কলম্বাস’ রচনায় সহায়ক হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আমেরিকা শুধু একটি দেশ নয় বরং মানবজাতির প্রগতির প্রতীক। এই বিশ্বাস তাঁর সমগ্র জীবন ও কর্মকে এক সূত্রে গাঁথে। ‘দ্য ভিশন অব কলম্বাস’ ১৭৮৭ সালে প্রকাশিত হলে বার্লোর সাহিত্যিক খ্যাতি বাড়ে। এই দীর্ঘ দার্শনিক কবিতায় তিনি ক্রিস্টোফার কলম্বাসের কল্পিত দৃষ্টিতে আমেরিকার ভবিষ্যৎ দেখান। কবিতায় ইতিহাস, দর্শন ও জাতীয়তাবাদের মিশ্রণ ঘটে। কলম্বাসের চোখ দিয়ে তিনি আমেরিকার স্বাধীনতা, বাণিজ্য ও বিজ্ঞানের উন্নতি দেখান। এই রচনা তাঁর যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা ও হার্টফোর্ড উইটসদের প্রভাবকে একত্রিত করে।

কবিতায় তিনি যুক্তিবাদী স্বাধীনতার পক্ষে যুক্তি দেন এবং যুদ্ধ ও অত্যাচারের বিরোধিতা করেন। এই সময় তিনি ইউরোপে চলে যান এবং সেখানে ফরাসি বিপ্লবের সমর্থক হয়ে ওঠেন। ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে ‘দ্য ভিশন অব কলম্বাস’কে আরও বড় করে ‘দ্য কলম্বিয়াড’ হিসেবে রূপান্তরিত করতে অনুপ্রাণিত করে। তাঁর এই প্রথম মহাকাব্যিক প্রচেষ্টা পরবর্তীকালে তাঁর কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনে সাহায্য করে কারণ তিনি আমেরিকার আদর্শকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। এই কবিতা তাঁর জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ সেতু হয়ে দাঁড়ায় যা তাঁকে সাহিত্যিক থেকে কূটনীতিবিদে রূপান্তরিত করে। ইউরোপে বসবাসকালে বার্লো ফরাসি বিপ্লবের প্রবল সমর্থক হয়ে ওঠেন এবং রাজনৈতিক লেখালেখি শুরু করেন। তিনি ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডে কিছু সময় কাটান এবং সেখানে আমেরিকান স্বাধীনতার আদর্শ প্রচার করেন। এই সময় তিনি সায়োটো কোম্পানির মাধ্যমে জমি কেনাবেচার ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন যা পরবর্তীতে ব্যর্থ হয়। ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা তাঁকে আমেরিকার সরলতার কথা মনে করিয়ে দেয়। এই অনুভূতি থেকেই তিনি ‘দ্য হেস্টি পুডিং’ কবিতাটি রচনা করেন।

ইউরোপে থাকাকালীন তাঁর দেশপ্রেম আরও গভীর হয় এবং তিনি আমেরিকার সাধারণ জীবনযাপনকে মহিমান্বিত করতে চান। এই সময়ের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী কূটনৈতিক জীবনের ভিত্তি তৈরি করে। তিনি দেখেন যে আমেরিকা ইউরোপের জটিলতা থেকে মুক্ত একটি নতুন পথ দেখাতে পারে। এই দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে আলজিয়ার্সে কূটনৈতিক দায়িত্ব পালনের জন্য প্রস্তুত করে। তাঁর ইউরোপীয় জীবন তাঁর সাহিত্য ও কূটনীতিকে এক সূত্রে বেঁধে দেয় এবং তাঁকে একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে গড়ে তোলে। ‘দ্য হেস্টি পুডিং’ ১৭৯৩ সালে স্যাভয়ে রচিত হয় এবং ১৭৯৬ সালে প্রকাশিত হয়। এই মক-হিরোইক কবিতাটি তিন ক্যান্টোতে বিভক্ত এবং ভুট্টার আটার পুডিংকে কেন্দ্র করে রচিত। কবিতায় তিনি আমেরিকার সরল খাদ্যাভ্যাসকে ইউরোপীয় জটিলতার বিপরীতে তুলে ধরেন। তিনি দেখান যে হেস্টি পুডিং শুধু খাবার নয় বরং গণতন্ত্র ও সরলতার প্রতীক।

কবিতায় তিনি ইউরোপীয় অভিজাতদের সমালোচনা করেন যারা সাধারণ খাবারকে অবজ্ঞা করে। এই রচনা তাঁর ইউরোপীয় নির্বাসনের সময় দেশের জন্য নস্টালজিয়া প্রকাশ করে। কবিতাটি হাস্যরসাত্মক হলেও গভীর দেশপ্রেমিক বার্তা বহন করে। এই সময় তিনি আলজিয়ার্সে কূটনৈতিক দায়িত্ব নেন এবং আমেরিকান নাবিকদের মুক্ত করার চেষ্টা করেন। ‘দ্য হেস্টি পুডিং’-এর সরলতার আদর্শ তাঁর কূটনীতিতেও প্রতিফলিত হয়। তিনি বিশ্বাস করতেন যে আমেরিকা তার সরলতা ও স্বাধীনতার মাধ্যমে বিশ্বকে নেতৃত্ব দিতে পারে। এই কবিতা তাঁর পরবর্তী মহাকাব্য ‘দ্য কলম্বিয়াড’-এর সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করে। আলজিয়ার্সে কনসাল হিসেবে বার্লো ১৭৯৫ থেকে ১৭৯৭ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বারবারি জলদস্যুদের হাত থেকে আমেরিকান বন্দীদের মুক্ত করার জন্য চুক্তি সম্পাদন করেন। এই কূটনৈতিক সাফল্য তাঁর দেশপ্রেমকে বাস্তবে রূপ দেয়। তিনি দেখেন যে স্বাধীনতা শুধু কবিতায় নয় বরং বাস্তব কর্মেও রক্ষা করতে হয়। আলজিয়ার্সের অভিজ্ঞতা তাঁকে আমেরিকার শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে সচেতন করে। এই সময় তিনি ‘দ্য হেস্টি পুডিং’-এর সরলতার আদর্শকে বাস্তবে প্রয়োগ করেন।

তাঁর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ‘দ্য কলম্বিয়াড’-এর স্বাধীনতা ও প্রগতির বার্তার সঙ্গে মিলে যায়। আলজিয়ার্স থেকে ফিরে তিনি ‘দ্য ভিশন অব কলম্বাস’-কে আরও বড় করে ‘দ্য কলম্বিয়াড’ হিসেবে রূপান্তরিত করার কাজ শুরু করেন। এই অভিজ্ঞতা তাঁর পরবর্তী ফ্রান্সে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনে সাহায্য করে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে কূটনীতি ও কবিতা একই আদর্শের দুটি রূপ। এই সংযোগ তাঁর সমগ্র জীবনকে এক অখণ্ড চিত্র দেয়। ‘দ্য কলম্বিয়াড’ ১৭০৭ সালে প্রকাশিত হয় এবং এটি বার্লোর সবচেয়ে বড় সাহিত্যিক অর্জন। এই বিশাল মহাকাব্যে তিনি কলম্বাসের সময় থেকে আমেরিকার ভবিষ্যৎ পর্যন্ত ইতিহাস বর্ণনা করেন। কবিতায় যুক্তিবাদী স্বাধীনতা, বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও যুদ্ধবিরোধী মনোভাব প্রকাশ পায়। তিনি আমেরিকাকে মানবজাতির প্রগতির শীর্ষ হিসেবে দেখান। কবিতাটি অত্যন্ত ব্যয়বহুলভাবে মুদ্রিত হয় এবং চিত্রসহ প্রকাশিত হয়।

এই রচনা তাঁর আলজিয়ার্সের কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ইউরোপীয় জীবনের প্রভাব বহন করে। ‘দ্য কলম্বিয়াড’ তাঁর জীবনের সব অভিজ্ঞতাকে একত্রিত করে আমেরিকার জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলে। এই মহাকাব্য তাঁর পরবর্তী কূটনৈতিক দায়িত্বকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। তিনি বিশ্বাস করতেন যে সাহিত্য ও কূটনীতি একসঙ্গে জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে। এই কবিতা তাঁর মৃত্যুর পরও তাঁর আদর্শকে জীবিত রাখে। পরবর্তী জীবনে বার্লো ১৮১১ সালে ফ্রান্সে মার্কিন মন্ত্রী নিযুক্ত হন। তিনি নেপোলিয়নের সঙ্গে চুক্তি করতে পোল্যান্ডে যান কিন্তু ১৮১২ সালের ২৬ ডিসেম্বর সেখানে নিউমোনিয়ায় মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যু তাঁর আজীবনের আশাবাদী চেতনাকে থামাতে পারেনি। তিনি শেষ পর্যন্ত আমেরিকার স্বার্থ রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। এই শেষ অধ্যায় তাঁর আলজিয়ার্সের সাফল্য ও ‘দ্য কলম্বিয়াড’-এর আদর্শের সঙ্গে সংযুক্ত। তাঁর মৃত্যু আমেরিকার প্রথম দিকের কূটনীতিকদের এক উজ্জ্বল অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটায়।

তিনি বিশ্বাস করতেন যে আমেরিকা বিশ্বকে শান্তি ও প্রগতির পথ দেখাবে। এই আশা তাঁর সমগ্র জীবন ও কর্মকে এক সূত্রে বেঁধে রাখে। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁর সাহিত্যকর্ম আমেরিকার সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সমৃদ্ধ করে। বার্লোর ব্যক্তিগত জীবনও তাঁর সাহিত্য ও কূটনীতির সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত ছিল। তিনি রুথ বাল্ডউইনকে বিয়ে করেন এবং একটি স্থিতিশীল পারিবারিক জীবন গড়ে তোলেন। তবে সায়োটো জমি কেনাবেচার ব্যর্থতা তাঁকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই ব্যর্থতা তাঁকে মানুষের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে সচেতন করে এবং তাঁর দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গিকে আরও গভীর করে।

তিনি দেবতাবাদী মতবাদে বিশ্বাসী ছিলেন এবং যুক্তি ও বিজ্ঞানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। এই দার্শনিক চিন্তা ‘দ্য কলম্বিয়াড’-এ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম তাঁকে আমেরিকার সম্ভাবনায় আরও দৃঢ়প্রত্যয়ী করে তোলে। এই অভিজ্ঞতা তাঁর কূটনৈতিক ও সাহিত্যিক কর্মকে আরও বাস্তবসম্মত করে। তাঁর জীবন দেখায় যে ব্যক্তিগত ব্যর্থতাও জাতীয় আদর্শ গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। জোয়েল বার্লোর জীবন ও কর্ম এক অবিচ্ছিন্ন সূত্রে গাঁথা যা তাঁর প্রারম্ভিক যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে ইউরোপীয় কূটনীতি ও মহাকাব্য রচনা পর্যন্ত বিস্তৃত। তিনি একজন কবি, কূটনীতিবিদ ও দার্শনিক হিসেবে আমেরিকার প্রথম দিকের জাতীয় পরিচয় গড়ে তোলেন। ‘দ্য হেস্টি পুডিং’ ও ‘দ্য কলম্বিয়াড’ তাঁর দেশপ্রেম ও সরলতার আদর্শকে প্রকাশ করে। আলজিয়ার্সের কূটনৈতিক সাফল্য ও শেষ জীবনের ত্যাগ তাঁর আদর্শকে বাস্তবে রূপ দেয়।

তাঁর ব্যক্তিগত সংগ্রাম ও দার্শনিক চিন্তা তাঁর সাহিত্যকে আরও গভীর করে। তাঁর জীবন প্রমাণ করে যে সাহিত্য ও কূটনীতি একসঙ্গে একটি জাতিকে শক্তিশালী করতে পারে। তাঁর রচনা ও কর্ম আজও আমেরিকার স্বাধীনতা, প্রগতি ও যুক্তিবাদী চিন্তার প্রতীক হয়ে আছে। তাঁর সমগ্র জীবন একটি মহাকাব্যের মতো যেখানে প্রতিটি অধ্যায় পরবর্তী অধ্যায়ের সঙ্গে সংযুক্ত এবং সবকিছু মিলিয়ে এক অসাধারণ জাতীয় ব্যক্তিত্বের চিত্র ফুটে ওঠে।

Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain