সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, Sanjib Chandra Chattopadhyay (1834–1889)

 Sanjib Chandra Chattopadhyay (1834–1889)


সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় সম্পর্কে ১০টি তথ্য

১. বঙ্কিমচন্দ্রের অগ্রজ: তিনি বাংলা সাহিত্যের 'সাহিত্যসম্রাট' বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা (বড় ভাই) ছিলেন। দুই ভাইয়ের সাহিত্যিক অবদানই বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে।

২. 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীর স্রষ্টা: বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসের অন্যতম প্রথম এবং শ্রেষ্ঠ ভ্রমণকাহিনী 'পালামৌ' তাঁরই রচনা। ১২৮৭ থেকে ১২৮৯ বঙ্গাব্দের মধ্যে 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকায় এটি ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিল।

৩. রবীন্দ্রনাথের অনুপ্রেরণা: তাঁর লেখা 'পালামৌ' ভ্রমণকাহিনীটি তরুণ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে এতটাই মুগ্ধ ও অনুপ্রাণিত করেছিল যে, এটি পড়ার পরই রবীন্দ্রনাথের মনেও ভ্রমণের গভীর আগ্রহ জেগে ওঠে।

৪. 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদক: বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কর্তৃক প্রবর্তিত বিখ্যাত 'বঙ্গদর্শন' পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব একসময় সঞ্জীবচন্দ্র নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এবং অত্যন্ত দক্ষতার সাথে তা পরিচালনা করেছিলেন।

৫. 'ভ্রমর' পত্রিকার সূচনা: বঙ্গদর্শন ছাড়াও তিনি নিজে 'ভ্রমর' নামের একটি নিজস্ব সাপ্তাহিক/মাসিক পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছিলেন (১২৮১ বঙ্গাব্দ)।

৬. ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের চাকরি: পিতার মতো সঞ্জীবচন্দ্রও ব্রিটিশ সরকারের অধীনে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তবে একটি বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে না পারায় তাঁর সেই পদটি চলে যায়।

৭. আমলাতন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও ইস্তফা: পরবর্তীতে তিনি স্পেশাল সাব-রেজিস্ট্রার পদে যোগ দেন। কিন্তু যশোরের ইংরেজ ম্যাজিস্ট্রেট বার্টনের সাথে তীব্র মতবিরোধ এবং ঔপনিবেশিক আমলাতন্ত্রের বৈষম্যমূলক আচরণের প্রতিবাদে তিনি সেই সরকারি চাকরি থেকে ইস্তফা দেন।

৮. কৃষক অধিকার নিয়ে ঐতিহাসিক গবেষণা: ১৮৬৪ সালে তিনি ইংরেজিতে 'Bengal Ryots: Their Rights and Liabilities' নামে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবন্ধ-বই লেখেন। চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের ফলে বাংলার কৃষকদের যে ক্ষতি হচ্ছিল, তা এই বইয়ে উঠে আসে এবং পরবর্তীতে ১৮৮৫ সালের 'বেঙ্গল টেন্যান্সি অ্যাক্ট' (বঙ্গীয় প্রজাস্বত্ব আইন) প্রণয়নে এই বইটির বড় ভূমিকা ছিল।

৯. প্রথম যুগের ঐতিহাসিক গবেষক: তিনি বাঙালিদের মধ্যে অন্যতম আদি ঐতিহাসিক গবেষক ছিলেন। তাঁর লেখা ঐতিহাসিক উপন্যাস/গবেষণা 'জালপ্রতাপ চাঁদ' (১৮৮৩) সমকালীন সুধীসমাজে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল।

১০. অন্যান্য বিখ্যাত সৃষ্টি: ভ্রমণকাহিনী ও প্রবন্ধ ছাড়াও তিনি বেশ কিছু উপন্যাস ও গল্প উপহার দিয়েছেন, যার মধ্যে 'কণ্ঠমালা' ১৮৭৭, 'মাধবীলতা' (১৮৮৪) এবং 'দামিনী' অন্যতম।

 "বঙ্কিমচন্দ্রের প্রতিভা যদি সূর্যের মতো দীপ্ত হয়, তবে সঞ্জীবচন্দ্রের প্রতিভা ছিল স্নিগ্ধ জ্যোৎস্নার মতো।" সমকালীন সমালোচকদের মতে, বঙ্কিমচন্দ্রের ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেলেও সঞ্জীবচন্দ্রের নিজস্ব গদ্যশৈলী ছিল অত্যন্ত সহজ, সাবলীল ও আধুনিক।

Sanjib Chandra Chattopadhyay (1834–1889)

Post a Comment

© Article and Story. All rights reserved. Developed by Jago Desain